Uncategorized

অনেকে সমালোচনা করে কথা বলতে দেয়া হয় না বলেন

সরকারের উন্নয়নের সমালোচনাকারীদের সারা দেশ ঘুরে আসার পরামর্শ দিয়ে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, ঢাকায় বসে অনেকেই

সমালোচনা করেন, তাদের আমার অনুরোধ থাকবে; সারা বাংলাদেশটা আপনারা একটু ঘুরে দেখুন। পরিবর্তনটা কোথায় এসেছে, কতটুকু

এসেছে। তিনি বলেন, এখন সবাই কথা বলতে পারেন, টকশো করতে পারেন। যখন টকশোতে কথা বলেন, কেউ তো আপনাদের মুখ চেপে ধরেনি বা গলা চেপেও ধরেনি। অবশ্য আমি জানি, অনেক কথা বলার পরেও তারা বলবেন, আমাদের কথা বলতে দেওয়া হয় না। গতকাল ‘টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্য (এসডিজি)- এর বাস্তবায়ন পর্যালোচনার জন্য দ্বিতীয় জাতীয় সম্মেলন’ উদ্বোধন অনুষ্ঠানে ভার্চুয়ালি প্রধানমন্ত্রী এ

নির্দেশনা দেন। রাজধানীর বঙ্গবন্ধু আন্তর্জাতিক সম্মেলন কেন্দ্রে আয়োজিত এ অনুষ্ঠানে গণভবন থেকে ভিডিও কনফারেন্সে অংশ নেন প্রধানমন্ত্রী। সরকার প্রধান বলেন, অনেকেই হয়তো এখন সমালোচনা করে এটা করা হচ্ছে কেন? বা পরমাণু বিদ্যুৎ কেন করা হলো? এত টাকা খরচ হয়েছে। খরচের দিকটা সবাই শুধু দেখে। কিন্তু এই খরচের মধ্য দিয়ে নাগরিক জীবনে কী লাভ হবে এবং আমাদের অর্থনীতিতে কতটা

অবদান রাখবে… আমাদের উন্নয়ন গতিশীল হবে, মানুষের জীবন পরিবর্তন হবে; সেটা বোধহয় তারা বিবেচনা করেন না। এটা হচ্ছে খুব দুঃখজনক। কোভিড-১৯ ও রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধের কারণে বৈশ্বিক সংকটের কথা তুলে ধরে খাদ্য উৎপাদন বাড়ানোর পাশাপাশি সবাইকে পানি-বিদ্যুৎসহ খাদ্যশস্য সাশ্রয় করার আহ্বান জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। পাশাপাশি অর্থের সর্বোত্তম ব্যবহার এবং অপচয় রোধ নিশ্চিত করতে হবে। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেন, পরিস্থিতি যথেষ্ট পরিবর্তন হয়ে গেছে। বিশ্বব্যাপী একটা অর্থনৈতিক মন্দা দেখা দিচ্ছে। এমনকি

খাদ্যের অভাবও দেখা দিচ্ছে। সেই ক্ষেত্রে দেশে যেহেতু আমাদের জমি আছে, মানুষ আছে, আমি ইতোমধ্যে নির্দেশ দিয়েছি, যে আমাদের এক ইঞ্চি জমিও অনাবাদী থাকবে না। তিনি বলেন, দেশের মানুষকেও বলবো প্রত্যেকে যার যার যতটুকু সামর্থ্য আছে নিজের খাদ্য উৎপাদন করুন। নিজের খাদ্য সাশ্রয় করা এবং নিজের খাদ্যকে ব্যবহার করুন। আমাদের যা আছে সবগুলো ব্যবহার করার ক্ষেত্রে সবাইকে একটু সাশ্রয়ী হতে হবে। আমাদের পানি ব্যবহারে, বিদ্যুৎ ব্যবহারে ও খাদ্যশস্য ব্যবহারে, প্রতিটি ক্ষেত্রে সবাইকে সাশ্রয়ী হতে হবে। বৈশ্বিক সংকট বিষয়ে

সবাইকে সচেতন হওয়ার আহ্বান জানিয়ে শেখ হাসিনা বলেন, আমরা জানি কোভিড-১৯ এবং রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধ, এর ফলে সারা বিশ্বব্যাপী যে অর্থনৈতিক মন্দা দেখা দিয়েছে বা এর একটা ধাক্কা সব ক্ষেত্রে যে দেখা যাচ্ছে, ফলে মানুষের অনেক কষ্ট হবে। কাজেই সেটা যেন আমাদের দেশে না হয়, সেজন্য আমাদের দেশের প্রতিটি মানুষকে এবং প্রতিটি পরিবারকে এ ব্যাপারে সচেতন হতে হবে। দেশের যোগাযোগ ব্যবস্থার কথা তুলে ধরে প্রধানমন্ত্রী বলেন, নদীমাতৃক বাংলাদেশ। সেখানে যোগাযোগ ব্যবস্থার উন্নয়ন একান্তভাবে অপরিহার্য। নৌপথ যত বৃদ্ধি পাবে মানুষের পণ্য পরিবহন তত বৃদ্ধি পাবে। মানুষের যাতায়াত বৃদ্ধি পাবে, অর্থনীতি সচল হবে। একেবারে তৃণমূল পর্যায়ে উৎপাদিত পণ্য

বাজারজাত করা সহজ হবে। যেটা আমাদের অর্থনীতিকে আরও সচল করবে দারিদ্র্য বিমোচনে এবং অর্থনৈতিক উন্নয়নে তৃণমূল মানুষ সব থেকে বেশি লাভবান হবে। শেখ হাসিনা বলেন, আমাদের দেশের কৃষক, আমাদের দেশের শ্রমিক, আমাদের দেশের খেটে খাওয়া মানুষ- এই খেটে খাওয়া মানুষ; তাদের ভাগ্য পরিবর্তন করাই তো আমার লক্ষ্য। ওই কৃষক-শ্রমিক-মেহনতি মানুষের ভাগ্য পরিবর্তন করে তাদের একটু উন্নত জীবন দেওয়াই আমাদের লক্ষ্য। এসডিজিতে যেসব বিষয় রয়েছে যেগুলো আমাদের জন্য প্রযোজ্য আমরা তা বাস্তবায়ন করেছি এবং বাস্তবায়ন করে যাবো। তিনি বলেন, এসব প্রকল্প যখন সম্পন্ন হবে বা মানুষ যখন এর শুভ ফল ভোগ করবে তখন দেশের অর্থনীতির চাকা আরও গতিশীল হবে, সচল হবে। দারিদ্র্য বিমোচন হবে। আমরা দেশের মানুষের সার্বিক উন্নতি করতে পারবো। শেখ হাসিনা বলেন, টেকসই

উন্নয়ন অভীষ্ট অর্জনের পথে আমরা সাত বছর অতিক্রম করছি। গত দুই বছর কোভিড-১৯ বৈশ্বিক মহামারির কারণে এসডিজি বাস্তবায়ন গতি কিছুটা মন্থর হয়েছে। তবে আমরা আমাদের সামর্থ্যের সর্বোচ্চ ব্যবহার করে লক্ষ্য অর্জনে কাজ করে যাচ্ছি। সরকার প্রধান বলেন, আমি আশা করি এ সম্মেলনের মাধ্যমে এসডিজি বাস্তবায়নের সঙ্গে সম্পৃক্ত প্রতিষ্ঠানসমূহ তাদের বাস্তবায়ন অগ্রগতি পর্যালোচনা করার এবং বাস্তবায়ন সমস্যা চিহ্নিত করে তা সমাধানের পন্থা খুঁজে বের করতে সমর্থ হবে। প্রধানমন্ত্রী বলেন, আমাদের উন্নয়নে সরকারের পাশাপাশি উন্নয়ন সহযোগী সংস্থাসমূহ, এনজিও এবং সমাজের বিভিন্ন স্তরে প্রতিনিধিত্বকারী ব্যক্তিবর্গও সমানভাবে অংশীদার। এ সম্মেলনে সবার অংশগ্রহণ বাংলাদেশের ভবিষ্যৎ অগ্রযাত্রাকে আরও বেগবান করবে বলে আমি বিশ্বাস করি। তিনি বলেন, বাংলাদেশের অর্থনীতির চাকাকে সচল রাখতে

বেসরকারি খাত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছে। ইতোমধ্যে বেসরকারি খাতে বিনিয়োগের জন্য বিনিয়োগ পরিবেশ অধিকতর সহায়ক করা হয়েছে। এসডিজি বাস্তবায়নে আমরা নীতি সহায়তা এবং অর্থের জোগান অব্যাহত রাখবো, তবে অর্থের সর্বোত্তম ব্যবহার এবং অপচয় রোধ নিশ্চিত করতে হবে। পরিকল্পনামন্ত্রী এম এ মান্নান, প্রতিমন্ত্রী ড. শামসুল আলম ও জাতিসংঘের আবাসিক সমন্বয়ক (ভারপ্রাপ্ত) তুওমো পাউতিয়ানেন অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখেন। স্বাগত বক্তব্য রাখেন এসডিজি বিষয়ক মুখ্য সমন্বয়ক জুয়েনা আজিজ। কূটনৈতিক সম্পর্কের ৫০ বছর পূর্তিতে শেখ হাসিনাকে স্পেনের প্রেসিডেন্টের শুভেচ্ছা বার্তা : স্পেন-বাংলাদেশ দ্বিপাক্ষিক কূটনৈতিক সম্পর্কের ৫০ বছর পূর্তি উপলক্ষে

স্পেনের প্রেসিডেন্ট পেড্রো সানচেজ প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনারে কাছে শুভেচ্ছা বার্তা পাঠিয়েছেন। অন্যদিকে, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাও দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কের ৫০ বছর পূর্তি উপলক্ষে স্পেনের প্রেসিডেন্টকে শুভেচ্ছা জানিয়ে বার্তা পাঠিয়েছেন। স্পেন ১৯৭২ সালের ১২ মে বাংলাদেশকে কূটনৈতিক স্বীকৃতি দিয়েছিল। বিভিন্ন কর্মসূচী পালনের মধ্য দিয়ে বন্ধু প্রতীম দুই দেশ এ বছর কূটনৈতিক সম্পর্কের সুবর্ণ জয়ন্তী উদযাপন করছে। বার্তায় প্রেসিডেন্ট পেড্রো সানচেজ প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার প্রাজ্ঞ ও দূরদর্শী নেতৃত্বে অর্জিত বাংলাদেশের অনন্যসাধারণ আর্থ-সামাজিক উন্নয়ন এবং জাতিসংঘসহ আঞ্চলিক ও আন্তর্জাতিক পরিমন্ডলে বাংলাদেশের দায়িত্বশীল সক্রিয় ও দৃশ্যমান ভূমিকার ভূয়সী প্রশংসা করেন। জাতিসংঘের ৭৫ তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে মাদ্রিদে ২০২০ সালে গৃহীত ‘টুগেদার ফর এ্যা রেইনফোর্সড মাল্টিলেটারলিজম’ শীর্ষক যৌথ ঘোষণায় বিধৃত বহুপাক্ষিক বিশ্বব্যবস্থার নীতির প্রতি বাংলাদেশের অবিচল সমর্থন ও অঙ্গীকারের প্রশংসা করে স্পেনিশ নেতা বলেন, ‘২০০৮

সালে ঢাকায় স্পেনের আবাসিক দূতাবাস চালুর পর থেকে দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক আরো বেগবান ও বহুধা বিস্তৃত হয়েছে। স্পেন বর্তমানে বাংলাদেশের চতুর্থ বৃহত্তম রপ্তানি গন্তব্য। স্পেনীয় উদ্যোক্তা ও বিনিয়োগকারীগণ বাংলাদেশে তাদের উপস্থিতি সম্প্রসারণে ক্রমবর্ধমান আগ্রহ প্রকাশ করছেন। শেখ হাসিনা বাংলাদেশের বিভিন্ন সম্ভাবনাময় খাতে স্পেনীয় বিনিয়োগ বৃদ্ধিরও আহ্বান জানান। বার্তায় প্রধানমন্ত্রী স্পেনের প্রেসিডেন্টকে পারস্পরিক সুবিধাজনক সময়ে বাংলাদেশ সফরের আমন্ত্রণ জানিয়েছেন।

Related Articles

Back to top button