আলোচিত খবর

যেভাবে চট্টগ্রাম গেলেন রামগঞ্জের গৃহবধূ মোহনা, ফিরে এসে দিলেন রোমহর্ষক বর্ণনা

লক্ষ্মীপুরের রামগঞ্জে নিখোঁজের ৭দিন পর গৃহবধূ মোহনা আক্তারকে

চট্টগ্রাম থেকে উদ্ধার করেছে পুলিশ। পরে মোহনাকে তার মা কামরুন

নাহারের জিম্মায় দেওয়া হয়েছে। বৃহস্পতিবার রাতে অভিযান চালিয়ে চট্টগ্রামের পাহারতলী থানার ৯নং ওয়ার্ডের দুলাল হোসেন কলোনির একটি সেমিপাকা ঘর থেকে তাকে উদ্ধার করা হয়েছে। বর্তমানে মোহনা আক্তার চিকিৎসাধীন। কিন্তু সাতদিন আগে তিনি কিভাবে রামগঞ্জের সান্দানপুর স্বামীর বাড়ি থেকে চট্টগ্রামের পাহাড়তলীতে গেলেন? এ প্রশ্নের উত্তর এখনো অজানা। সূত্র জানায়, ঐ উপজেলার ৪নং ইছাপুর ইউনিয়নের সান্দানপুর মসজিদ বাড়িতে নিজ স্বামীর ঘরে শ্বশুর-শাশুড়ি ও ননদকে নিয়ে ইফতার

করতে বসেন। শাশুড়ি রোকেয়া আক্তার গ্লাসে করে সাদা রঙের শরবত দেয়। তার কথামতো সেই শরবত পান করার কিছুক্ষণ পর মোহনার মাথা ঘুরাতে শুরু করে। এক পর্যায়ে রাত ৯টার দিকে তিনি আরো অসুস্থ হয়ে পড়লে মা কামরুন নাহারকে কল দিয়ে জানান। পরে অবস্থার আরো অবনতি হলে দ্বিতীয়বার মাকে কল দিতে চাইলে মোহনার শাশুড়ি মোবাইলের সিম খুলে নিয়ে যান। এরপর মোহনা পুরোপুরি অজ্ঞান হয়ে যান। গৃহবধূ মোহনা আক্তার বলেন, আমার স্বামী আবদুর রহমান, শ্বশুর আবুল খায়ের, শাশুড়ি রোকেয়া বেগম ও খালাতো দেবর ফয়সাল এ ঘটনা ঘটিয়েছেন। ১৪ এপ্রিল রাতে অজ্ঞান হওয়ার পর ১৫ তারিখ বিকেলে চট্টমের অলংকার বাসস্টান্ডে একজন অপরিচিত লোক বাস থেকে নামিয়ে দেয়। এই ১৭ ঘণ্টা কী হয়েছিল আমার সঙ্গে বলতে পারব না। তবে রাত ১১টার পর যখন শরীর নিস্তেজ হয়ে আসে তখন খালাতো দেবর ফয়সালকে আমার শ্বশুর-শাশুড়ির সঙ্গে পরামর্শ করতে শুনেছি। কিন্তু তখন আমি কথা বলার শক্তি পাচ্ছিলাম না। মোহনা আক্তারকে উদ্ধারের পর তার শ্বশুর বাড়িতে কাউকে না পাওয়ায় এবং তাদের মোবাইল বন্ধ থাকায় অভিযুক্তদের বক্তব্য নেয়া সম্ভব হয়নি। রামগঞ্জ থানার ওসি মোহাম্মদ এমদাদুল হক বলেন, মোবাইল ট্র্যাকিংয়ের মাধ্যমে চট্টগ্রামে গিয়ে মোহনাকে উদ্ধার করা হয়েছে। তিনি চাকরি করতে সেখানে গিয়েছিলেন বলে শ্বশুরবাড়ির লোকজন জানিয়েছে।

Related Articles

Back to top button