দেশের-খবর

মানুষকে বাঁচাতে রক্তদানের সংগঠন গড়া ছেলেটিই এখন ব্লাড ক্যান্সারে আক্রান্ত!

মানুষের জীবন ও দেহের সুরক্ষায় রক্ত অপরিহার্য অনুষঙ্গ। কিন্তু মানুষে

মানুষে অনেক তফাৎ! কেউ রক্ত দেয়; আবার কেউ রক্ত নেয়।

কেউ কেউ তো এমনও আছে, যারা রক্তের বন্যা বইয়ে দিয়ে নিষ্ঠুর জিঘাংসায় লিপ্ত হয়। খুন-পিয়াসী ‘খুনিয়া’ হয়ে ওঠে। মানবতার গায়ে এঁকে দেয় কলঙ্ক-চিহ্ন। কিন্তু এ রক্তই অনেকে ভ্রাতৃত্ব ও মানবতার চেতনায় উজ্জীবিত হয়ে মুমূর্ষু রোগীর জন্য আনন্দচিত্তে ও অকাতরে বিলিয়ে দেয়। শুধু সওয়াব-পুণ্যের আশায়; আর একটুখানি হাসির ঝিলিক দেখতে। কুমিল্লার মনিপাল এএফসি হাসপাতালের ল্যাব টেকনোলজিস্ট ওমর ফারুক। পেশাগত দায়িত্ব পালনের সঙ্গে সঙ্গে চালিয়ে যাচ্ছেন কম্পিউটার সায়েন্সের

পড়াশোনাও। তবে এসবের আগেই প্রেমে পড়েছেন সাহিত্যের, গেল কয়েক বছর ধরেই ব্লগ, পত্রপত্রিকায় লিখে যাচ্ছেন কবিতা। এরই মধ্যে নিজেও কবিতার বই সম্পাদনা করেছেন; গল্প লেখা এবং ছবি আঁকতেও ভালোবাসেন সবে ত্রিশ পেরোনো যুবক ওমর ফারুক। লেখালেখির পাশাপাশি ‘ব্লাড ফর লাইফ’ নামে একটি স্বেচ্ছায় রক্তদানকারীদের একটি সংগঠনও গড়ে তুলেছিলেন তিনি। হাজারও মানুষকে রক্ত দিয়ে জীবন বাঁচানোর প্রত্যাশায় সংগঠন গড়া ছেলেটির শরীরে দানা বেঁধেছে মরণব্যাধি ক্যান্সার। ওমর ফারুক গত এক বছর ধরে অসুস্থতার সঙ্গে লড়াই করছেন। তিনি দীর্ঘদিন ধরে ঢাকা মেডিক্যাল কলেজের অধ্যক্ষ ডা. মো. টিটো মিঞার অধীনে চিকিৎসা নিচ্ছেন। সদা হাস্যোজ্জ্বল এই যুবককে বাঁচাতে সবার সহযোগিতা কামনা করেছেন তার বন্ধু ও প্রিয়জনরা। চিকিৎসকদের বরাত দিয়ে তার জানিয়েছেন, ওমর ফারুককে বাঁচাতে তাকে ভারতের তামিলনাড়ুর সিএমসি হাসপাতালে চিকিৎসার প্রস্তুতি নেওয়া হচ্ছে। চিকিৎসকরা বলেছেন, তার চিকিৎসায় প্রায় ৮-১০ লাখ টাকা প্রয়োজন হবে। যা তার নিম্ন মধ্যবিত্ত পরিবারের পক্ষে জোগাড় করা প্রায় অসাধ্য।

Related Articles

Back to top button