Uncategorized

‘ছেলেকে হাফেজ বানাতে চেয়েছিলাম, সব তছনছ হয়ে গেলো’

নারায়ণগঞ্জের ট্রেন ও বাসের সংঘর্ষে রিফাত হোসেন নামের

পথচারী এক শিশু চিকিৎসাধীন অবস্থায় ঢাকা মেডিকেল কলেজ

(ঢামেক) হাসপাতালে মারা গেছে। গতকাল রোববার বিকেল সাড়ে ৫টার দিকে নারায়ণগঞ্জের চাষাঢ়ায় এ দুর্ঘটনার পর গুরুতর আহত অবস্থায় রিফাতকে ঢামেক হাসপাতালে নিয়ে এলে রাত সাড়ে ৮টার দিকে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন। পুলিশের উপপরিদর্শক (এসআই) মুখলেছুর রহমান সুরতহাল রিপোর্ট করার পর সোমবার বিকেলে মরদেহ পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে। খোঁজ নিয়ে জান যায়, গতকাল রোববার সকালে নারায়ণগঞ্জের চাষাঢ়ায় বোনের বাড়ি বেড়াতে এসে বিকেলে বাসায়

ফিরছিল শিশু রিফাত। পরে অনেক খোঁজাখুঁজির পরও তাকে না পাওয়ার একপর্যায়ে ওই দুর্ঘটনার খবর পায় তার পরিবার। এবং জানতে পারে গুরুতর আহত অবস্থায় রিফাত ঢামেক হাসপাতালে চিকিৎসাধীন। রাতেই পরিবারের সদস্যরা হাসপাতালে এসে রিফাতের মৃত্যুর খবর শুনতে পায়। ঢামেক হাসপাতালে আসা পুত্রশোকে কাতর রিফাতের বাবা মোক্তার হোসেন সোমবার ময়নাতদন্ত শেষে মরদেহ নিয়ে যাওয়ার সময় জাগো নিউজকে জানান, তার ছেলের বয়স ১০ বছর। তাকে মাদরাসায় পড়াশোনা করিয়ে হাফেজ বানানোর স্বপ্ন ছিল পরিবারের। একটি দুর্ঘটনা আমার সব স্বপ্ন তছনছ করে দিলো। তিনি বলেন, আমার বড় মেয়ে যুথী আক্তারের বাসা নারায়ণগঞ্জের চাষাঢ়ায়। সেখানেই বেড়াতে গিয়ে ফেরার পথে দুর্ঘটনার শিকার হয় রিফাত। পরে আমরা গণমাধ্যমে খবর দেখে চাষাঢ়ায় একটি দুর্ঘটনা কথা শুনতে পারি। রাতে ঢামেক হাসপাতালে এসে ছেলের মরদেহ শনাক্ত করি। রিফাতের বাবা মোক্তার হোসেন পেশায় একজন নির্মাণশ্রমিক। থাকেন নারায়ণগঞ্জের পাইকপাড়া ২নং গেট বাবুরাইল কাঠপট্টি এলাকায়। ঢামেক পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ পরিদর্শক (এসআই) বাচ্চু মিয়া দুর্ঘটনায় মৃত্যুর তথ্য নিশ্চিত করেন। রোববার (২৬ ডিসেম্বর) বিকেলে নারায়ণগঞ্জের এক নম্বর রেলগেট এলাকা আনন্দ পরিবহনের একটি বাসের সঙ্গে ট্রেনের ধাক্কা লাগে। এতে দুমড়ে-মুচড়ে যায় বাসটি। ঘটনাস্থলেই নিহত হন দুজন। ঢামেক হাসপাতালে নিয়ে আসার পর রাতে শিশু রিফাতের মৃত্যু হয়। এ ঘটনায় আরও বেশ কয়েকজন আহত হন।

Related Articles

Back to top button